মো:এনামুল ইসলাম,কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
রাতের বেলায় দুই বা ততোধিক শিক্ষার্থীর অপ্রয়োজনীয় আড্ডা বন্ধ করা এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য। বাসায় পড়াশোনা না করে শহরের অলিগলিতে আড্ডা দেওয়া অনেক সময় মাদকাসক্তি বা কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করে।
প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০ বছর বয়সী (নবম-দশম বা ইন্টারমিডিয়েট পর্যায়ের) শিক্ষার্থীদের এই অভিযানের আওতায় আনা হয়েছে।
এই বয়সটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও প্রভাবগ্রহণকারী। এ সময় ভালো বা খারাপ—যে কোনো পরিবেশ সহজেই তাদের আকৃষ্ট করতে পারে। তাই লেকের পাড়, অন্ধকার স্থান বা নির্জন জায়গায় আড্ডা থেকে তাদের বিরত রাখাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
শুধুমাত্র শিক্ষার্থী নয়, বখাটে ও অপ্রয়োজনীয়ভাবে রাতে বাইরে ঘোরাফেরা করে এমন ব্যক্তিদেরও এই অভিযানের আওতায় আনা হয়েছে, যাতে তারা মাদক বা অন্যান্য অপরাধে জড়াতে না পারে।
অভিযানে আটক ব্যক্তিদের তাদের অভিভাবকদের জানাতে বলা হয়, যাতে অভিভাবকরা থানায় এসে মুচলেকা দিয়ে তাদের নিয়ে যেতে পারেন। এর উদ্দেশ্য হলো—অভিভাবকদের সচেতন করা এবং সন্তানদের সঠিক পথে ফেরানো।
প্রাইভেট পড়া, চিকিৎসা বা অন্য কোনো জরুরি প্রয়োজনে বাইরে থাকা ব্যক্তিরা এই অভিযানের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
আটককৃতদের ভবিষ্যতে বখাটে আড্ডা, নির্জন স্থান বা সন্দেহজনক পরিবেশে জড়িত না হওয়ার জন্য সতর্ক ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অনেক অভিভাবক এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। তারা মনে করেন, শহরে কিশোর গ্যাংয়ের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের কার্যক্রম প্রয়োজনীয় এবং সময়োপযোগী।
গতকাল রাত ১২টার পর সকল অভিভাবক থানায় উপস্থিত হয়ে মুচলেকা দিয়ে আটককৃতদের বুঝে নেন।
রাত আনুমানিক ১২টার দিকে পুলিশ সুপার কিশোরগঞ্জ সদর থানায় উপস্থিত হয়ে আটককৃত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন। তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সন্তানের সাফল্যই একদিন বাবা-মায়ের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হবে।