
রেশমা চৌধুরী :
ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার নেয়ামতপুর, মদনপুর, তুলাতুলি, চার মুন্সি ও আশপাশের চরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে জমি দখল, লুটপাট, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী তৎপরতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় অসহায় পরিবারগুলোর দাবি—৫ আগস্ট ২০২৪ হতে একটি সংগঠিত সশস্ত্র চক্র এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে অসংখ্য মানুষকে ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন “বশির মেম্বার” নামে পরিচিত একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি, যিনি অতীতেও অস্ত্র, ডাকাতি ও ভূমিদস্যুতা সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলার অভিযুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি এসব মামলায় বেশ কয়েকবার কারাবাসও করেছেন, এবং তার চারপাশে একটি শক্তিশালী সশস্ত্র গ্রুপ গড়ে উঠেছে।
চরে হামলা–লুটপাট, আটক একজন — জবানবন্দিতে “বশির মেম্বার”-এর নাম বারবার উচ্চারিত
গতকাল সকাল ১০টার দিকে তরমুজক্ষেত, দোকানঘর, বসতবাড়ি এবং কলোনিগুলোতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং নারী নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
হামলার সময় স্থানীয় চার যুবক চক্রটির একজন সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয় এবং পরবর্তীতে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়।
এলাকাবাসীর দাবি—আটক যুবকের প্রাথমিক জবানবন্দির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে তিনি কথিতভাবে—
বশির মেম্বারের নাম বারবার উল্লেখ করেছেন,
চরের দখল ও লুটপাটে বশির মেম্বার ও তার সঙ্গীদের সম্পৃক্ততার কথা বলেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে ভিডিওর সত্যতা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যাচাই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
চরাঞ্চলের বহু পরিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন—
এক হাজার একর জমি দখলের নিয়েছেন বশির মেম্বার বাহিনী,
কৃষকের ফসল কেটে নেওয়া
গবাদিপশু, জাল, নৌকা ছিনিয়ে নেওয়া
ঘরবাড়ি ভাঙচুর,পরিবারপ্রতি চাঁদা দাবি,চাঁদা না দিলে নির্যাতন
নারী নির্যাতনের গোপন অভিযোগ
বন বিভাগের গাছ কেটে খালবিল দখলের অভিযোগ।
অনেক পরিবার জানিয়েছে, আতঙ্কের মাত্রা এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, শিশুরা রাতে কান্নাকাটি করলে তারা “বশির মেম্বার আসবে” বলে ভয় দেখিয়ে ঘুম পাড়াতে বাধ্য হয়।
স্থানীয়দের দাবি, বারবার অভিযোগ করেও কার্যকর আইনশৃঙ্খলা তৎপরতা দেখা যায়নি।
ফলে পুরো চরাঞ্চলে এক ধরনের অবৈধ সন্ত্রাসী রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মানুষের অভিযোগ।
একাধিক ভুক্তভোগীর বক্তব্য—চাঁদা না দিলে হামলা হয়। ফসল কেটে নিয়ে যায়। বাঁচার কোনো পথ নেই।”
সচেতন নাগরিক, বিভিন্ন মানবাধিকার কর্মী এবং ভুক্তভোগীদের দাবি—
আটক আসামির ভাইরাল জবানবন্দির সত্যতা যাচাই,
“বশির মেম্বার” ও সংশ্লিষ্ট চক্রের বিরুদ্ধে স্বাধীন, নিরপেক্ষ তদন্ত,
অসহায় পরিবারদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন—অত্যন্ত জরুরি।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।