লাখাইয়ে এক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে  রাষ্ট্রীয় শোক অবমাননার অভিযোগ - দৈনিক দেশ কন্ঠ

লাখাইয়ে এক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে  রাষ্ট্রীয় শোক অবমাননার অভিযোগ

প্রকাশকঃ দৈনিক দেশ কন্ঠ
প্রকাশ: ডিসেম্বর ২১, ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির অকাল মৃত্যুতে ঘোষিত একদিনের রাষ্ট্রীয় শোকের দিনে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগ ওঠেছে লাখাই উপজেলার ২৪ নং তেঘরিয়া -১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। সারা দেশে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশনা থাকলেও এই বিদ্যালয়ে তা কার্যকর করতে দেখা যায়নি।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ওসমান হাদিকে ‘ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী সংগ্রামের অমর সৈনিক’ হিসেবে অভিহিত করে শনিবার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন। এই শোকের অংশ হিসেবে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সূত্রে জানা গেছে, লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মুরাদ ইসলাম গত ১৯ ডিসেম্বর তার অফিসিয়াল ফেসবুক আইডির মাধ্যমে উপজেলার সকল প্রতিষ্ঠানকে এই শোক পালনের বিষয়ে বিস্তারিত অবগত করে ছিলেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জামাল উদ্দিন জানান, “আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং আমাদের শিক্ষকদের গ্রুপে পতাকা অর্ধনমিত রাখার সরকারি প্রজ্ঞাপনটি শেয়ার করেছি এবং সবাইকে যথাযথভাবে পালনের জন্য অবগত করেছি।”

এদিকে গতকাল শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখলেও ২৪নং তেঘরিয়া- ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই শোক পালনের কোনো প্রতিফলন নেই। সেখানে জাতীয় পতাকা যথাযথভাবে অর্ধনমিত করা হয়নি, যা সরাসরি রাষ্ট্রীয় নির্দেশনার লঙ্ঘন।

উপজেলার অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে যথাযথ মর্যাদায় রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে।সেখানে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন উদাসীনতায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি কেবল অবহেলা নয় বরং রাষ্ট্রীয় প্রতীক ও নির্দেশনার প্রতি চরম অশ্রদ্ধা।

এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান বলেন, আমি আমাদের দপ্তরী উজ্জ্বলকে পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ দিছিলাম। সে বলেছে পতাকা উত্তোলন করছে। দপ্তরী পতাকা উত্তোলন করেনি ডকুমেন্টস বাবদ ভিডিও রয়েছে বলে প্রশ্ন করলে এ প্রধান শিক্ষক কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

স্থানীয়রা বলছেন সরকারি ঘোষণা ও শিক্ষা অফিসের বারংবার নির্দেশনার পরও এমন বিচ্যুতি মেনে নেওয়া যায় না। তারা এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।