
মনর উদ্দিন মনির: লাখাই উপজেলায় ছোট ভাইয়ের ইটের আঘাতে বড় ভাই জুনাইদ (২৪) নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২ জানুয়ারী) উপজেলার বামৈ পশ্চিম গ্রাম এলাকায় এ ঘটনাঘটেছে। ঘটনার পর থেকে ছোট ভাই পলাতক রয়েছে। নিহত জুনাইদ ফান্দাউক গ্রামের মো. আবুল খায়েরের ছেলে। আর অভিযুক্ত ওবায়েদ উল্লাহ (১৯) তারই আপন ছোট ভাই।
বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ছোট্ট মিয়া বলেন, ছোট ভাইয়ের ইটের আঘাতে বড় ভাই জুনাইদ এর মৃত্যু হয়েছে। তবে কি কারনে এ ঘটনাঘটেছে তা আমি সঠিক জানিনা। তবে শুনছি পিতা পুত্রের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। আর নিহত জুনাইদ এর বাড়ি ফান্দাউক গ্রামে বামৈ নয়। তার বাবা আবুল খায়ের বামৈ পশ্চিম গ্রামে বিয়ে করার সুবাদে জুনাইসহ পরিবার লোকজন তাদের নানার বাড়িতে থাকতেন, একপর্যায়ে এখানে জয়গা জমি কিনে ১৫/২০ বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার (২ জানুয়ারী) বিকেলে পারিবারিক বিষয় নিয়ে পিতা আবুল খায়ের এর সাথে তারই বড় ছেলে জুনাইদের তুমুল বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে আবুল খায়েরের ছোট ছেলে ওবায়েদ উল্লাহ (১৯) তার বড় ভাই জুনাইদ কে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করলে জুনায়েদ মাঠিতে লুঠিয়ে পড়েন। পরে থাকে তার পরিবারের লোকজন লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্য চিকিৎসক জুনাইদকে হবিগঞ্জ জেলা সদরে হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট বা ঢাকায় রেফার্ড করেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঢাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলে নরসিংদী এলাকায় পৌছানো মাত্রই রাত আনুমানিক পোনো ১১টার দিকে জুনাইদ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পরে এদিন রাতেই নিহত জুনায়েদ কে হবিগঞ্জ সদর মডেল নিয়ে আসা হয়। এবং হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ তার সুরতহাল তৈরি হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করেন।
এ বিষয়ে লাখাই থানার ওসি. মোঃ জাহিদুল হক বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। তবে পরিবারের লোকজন বিষয়টিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেছিল। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।