খুলনায় ভাড়া বাসা থেকে নানী ও দুই নাতির মরদেহ উদ্ধার, পারিবারিক কলহের জেরে হত্যার প্রাথমিক ধারণা - দৈনিক দেশ কন্ঠ

খুলনায় ভাড়া বাসা থেকে নানী ও দুই নাতির মরদেহ উদ্ধার, পারিবারিক কলহের জেরে হত্যার প্রাথমিক ধারণা

প্রকাশকঃ দৈনিক দেশ কন্ঠ
প্রকাশ: মে ৩০, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা:
খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে এক নারী ও তার দুই নাতির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় সোনাডাঙ্গা থানাধীন সুজুকি কর্নার সংলগ্ন দারুল আমান মহল্লার একটি বাসা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিহতরা হলেন বেবি বেগম (৫৫/৬৫), তার নাতি শামীম বেপারী (১২/১৩) ও মুস্তাকিম (৪)। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তমিজউদ্দিন সড়কের দারুস আমান মহল্লায় শরিফুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন ফাতেমা বেগম (৩৫)। তার সঙ্গে থাকতেন মা বেবি বেগম এবং প্রথম পক্ষের দুই সন্তান শামীম ও মুস্তাকিম। চার বছর আগে ফাতেমা বেগমের প্রথম স্বামী মাসুম বেপারীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে তিনি রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে ফাতেমা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী রফিকুল ইসলাম এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ।

সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ভাড়া বাসা থেকে এক নারী ও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।”

ঘটনার খবর পেয়ে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ, গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং সিআইডির বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। তারা ক্রাইম সিন থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। নিহত তিনজনের সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে।