রাজবাড়ী বালিয়াকান্দির বহরপুর বাজারে পেঁয়াজের আড়ত বন্ধ, হিমশিম খাচ্ছে পেঁয়াজ চাষীরা - দৈনিক দেশ কন্ঠ

রাজবাড়ী বালিয়াকান্দির বহরপুর বাজারে পেঁয়াজের আড়ত বন্ধ, হিমশিম খাচ্ছে পেঁয়াজ চাষীরা

প্রকাশকঃ দৈনিক দেশ কন্ঠ
প্রকাশ: মে ৫, ২০২৬

শেখ 


আব্দুর রাজ্জাক রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি ঃ রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর হাটে কাঁচামাল ব্যবসায়ীদের আকস্মিক ধর্মঘটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। আজ মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল থেকে হাটে কোনো কাচামালের আড়ত না খোলায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে না পেরে বাধ্য হয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন।

জানা গেছে সোমবার (৪ মে) বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে পেঁয়াজ বিক্রির সময় ‘ঢলন’ বা ধলতা নামে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণে অতিরিক্ত ২-৩ কেজি পেঁয়াজ নেওয়ার অবৈধ প্রথা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উক্ত সিদ্ধান্ত নেওয় য় ব্যবসায়ীরা অসন্তোষ। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত এই প্রথা হঠাৎ বন্ধ করে দিলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মঙ্গলবার তারা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেন এবং আড়তগুলো বন্ধ রাখেন। মাঠ পর্যায়ে অনেক খুচরা ও পাইকারি ক্রেতা গন বলেন বেপারি রা কৃষকদের কাছ থেকে মণ প্রতি ২ – ৩ কেজি ধলতা নেয় ঠিকই তবে খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করতে গেলে ১০ গ্রাম বেশি হলেও ওই ১০ গ্রামের দাম সহ রেখে দেয় বেপারি রা।

মঙ্গলবার ভোরে হাটে গিয়ে দেখা যায় এক করুণ দৃশ্য, দূর-দূরান্ত থেকে ভ্যান ও নছিমন যোগে পেঁয়াজ সহ অন্যান্য কাঁচামাল নিয়ে আসেন কৃষকরা। আড়ত বন্ধ দেখে হতাশ হয়ে পড়েন তারা। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও আড়ত না খোলায় অনেক কৃষক অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুনে তাদের পণ্য পুনরায় বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যান। হাটে আসা এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন:

“আমরা হাড়ভাঙা খাটুনি করে ফসল ফলাই, কিন্তু হাটে এনে যদি বিক্রি করতে না পারি, তাহলে আমাদের লোকসানের সীমা থাকে না। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষে থাকলেও ধর্মঘটের কারণে আমরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”

বর্তমান পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অচলাবস্থা নিরসনে নতুন কোনো ঘোষণা আসেনি। ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের এই অনড় অবস্থানের কারণে সাধারণ কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে পচনশীল পণ্য নিয়ে কৃষকদের বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।