{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":[],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":false,"containsFTESticker":false}

মনর উদ্দিন মনির/পারভেজ হাসান : লাখাই মুক্তিযুদ্ধা সরকারি ডিগ্রি কলেজের জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক আবেদনকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে ব্যক্তির নামে জমি হাতিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে অত্র কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হামজা মাহমুদ, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক তাফাজ্জুল হক সহ ৯জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। পানির নিচের জমি নিয়ে এই ‘কারসাজি’ ফাঁস হওয়ার পর পুরো উপজেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
১৮ এপ্রিল দুপুরে স্থানীয় এক সংবাদকর্মী একটি ফেইসবুক পোস্টে এই বিষয়টি আবার প্রকাশ্যে আনেন। তার পোস্টের পর বামৈ গ্রামসহ পুরো উপজেলায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের প্রশ্ন—সরকারি জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক প্রস্তাব পাঠিয়ে কেন সেই জমি ব্যক্তি নামে (কলেজ কর্মকর্তা ও কর্মচারী) কেনা হলো? এটি কি পূর্বপরিকল্পিত কোনো ধান্দা, নাকি কলেজের স্বার্থের আড়ালে ব্যক্তিগত সম্পদ অর্জনের কৌশল?
অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসা তথ্য: গত আগস্ট ২০২৫ তারিখে কলেজের অধ্যক্ষ মো. হামজা মাহমুদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর কলেজের একাডেমিক উন্নয়নের দোহাই দিয়ে ৫০ শতক জমি অধিগ্রহণের একটি প্রস্তাব পাঠান। জমির মালিক শিক্ষক সুরঞ্জন দেবনাথকে সেই আবেদনের কপি দেখিয়ে ‘অধিগ্রহণ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, সরকারিভাবে জমিটি অধিগ্রহণ না করে সুরঞ্জন দেবনাথ এর কাছ থেকে অধ্যক্ষ ও কর্মচারীরা মিলে মাত্র ৭০ হাজার টাকা শতক দরে সেটি নিজেদের নামে ব্যক্তিগতভাবে রেজিস্ট্রি করে নেন।
অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, বিক্রেতা সুরঞ্জন দেবনাথ ৭০ হাজার টাকা শতক দরে জমি বিক্রি করলেও, অধ্যক্ষ ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক গংরা দলিলে জমির মূল্য দেখিয়েছেন ৯৫ হাজার টাকা শতক। অর্থাৎ নথিপত্রে মূল্যের এই বড় ব্যবধান দুর্নীতির নতুন এক দিক উন্মোচন করেছে। পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করেছেন অত্র কলেজের বিতর্কিত অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ও নিজেকে সাংবাদিক-দলিল লেখক পরিচয় দেওয়া তাফাজ্জুল হক।
বামৈ ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন ফুরুক একে একটি ‘সুপরিকল্পিত ফাঁদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “কলেজের বাউন্ডারির ভেতরের জমিগুলো কৌশলে ব্যক্তিনামে নেওয়া হয়েছে, যা জনমনে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মুরাদ ইসলাম জানান, যেহেতু কলেজের নাম দিয়ে জমিটি কেনা হয়েছে, তাই এই ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি পুনরায় কলেজকে ফেরত দিতে হবে। তবে অধিগ্রহণের আবেদন থাকা অবস্থায় ব্যক্তিগতভাবে কেনা কতটুকু বৈধ, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হামজা মাহমুদ জমি ক্রয়ের সত্যতা স্বীকার করলেও দুর্নীতির অভিযোগ এড়িয়ে গেছেন। তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন—যদি কলেজের জন্যই জমির প্রয়োজন হয়, তবে কেন শুরুতেই তা সরকারি বা কলেজের নামে কেনা হলো না? কেন ৯ জন ব্যক্তি মিলে এই ভাগাভাগি করলেন?
বর্তমানে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।