তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চেয়ে বিএনপি নেতা মির্জা মোস্তফা'র খোলা চিঠি - দৈনিক দেশ কন্ঠ

তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চেয়ে বিএনপি নেতা মির্জা মোস্তফা’র খোলা চিঠি

প্রকাশকঃ দৈনিক দেশ কন্ঠ
প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬

মোঃ রকিবুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ : দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর ও পূর্ণাঙ্গ কমিটির অভাব, অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা এবং চরম সমন্বয়হীনতার মধ্য দিয়ে চলছে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম। এ অবস্থায় দলের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ও সংকট নিরসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান।

​কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও ১৯৯১ সালের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম মির্জা মোরাদুজ্জামানের পুত্র মির্জা মোস্তফা জামান দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদের মাধ্যমে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে এ আবেদন পৌঁছে দেন।

​চিঠিতে মির্জা মোস্তফা জামান উল্লেখ করেন, সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো কার্যত অচলাবস্থায় পড়েছে। ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ১৮ সদস্যের যে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল, দীর্ঘ দুই বছরেও তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। অন্যদিকে দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা কমিটি দিয়ে দল পরিচালিত হওয়ায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর অনিশ্চয়তা, হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একই জেলায় দুটি কমিটি বিদ্যমান থাকাকে সারাদেশে বিএনপির রাজনীতিতে একটি নজিরবিহীন ও ক্ষতিকর ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

​দলকে সুসংগঠিত ও পুনরুজ্জীবিত করতে চিঠিতে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ৬ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে:

​পর্যালোচনা: সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির কার্যক্রম জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা।

​কমিটি পুনর্গঠন: প্রয়োজনবোধে বর্তমান সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি বিলুপ্ত করে একটি নতুন ও কার্যকর সাংগঠনিক কাঠামো গঠন।

​নির্দিষ্ট সময়সীমা: কোনো প্রকার দীর্ঘসূত্রতা না করে সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নতুন কার্যকরী কমিটি ঘোষণা।

​কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ: দলীয় প্রয়োজন বিবেচনায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে সরাসরি নতুন আহ্বায়ক বা জেলা কমিটি গঠন।

​তৃণমূলের মূল্যায়ন: ত্যাগী, পরীক্ষিত, সৎ, মেধাবী, সক্রিয় ও ‘ক্লিন ইমেজ’-এর নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন নিশ্চিতকরণ।

​স্বচ্ছতা ও মনিটরিং: ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত রেখে জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া সরাসরি মনিটরিং করা।

​খোলা চিঠিতে আরও বলা হয়, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সিরাজগঞ্জের নেতাকর্মীরা সব সময় সামনের সারিতে থেকে জেল-জুলুম ও ত্যাগের পরিচয় দিয়েছেন। তবে বর্তমানে একক নেতৃত্ব ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক আধিপত্যের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং জনগণের আস্থা নষ্ট হচ্ছে।

​খোলা চিঠির শেষাংশে মির্জা মোস্তফা জামান স্পষ্ট করেন যে, তিনি কোনো ব্যক্তিগত পদ-পদবির প্রত্যাশায় নয়, বরং সিরাজগঞ্জে বিএনপিকে গতিশীল ও ঐক্যবদ্ধ করতেই শীর্ষ নেতৃত্বের সরাসরি দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। জেলা বিএনপি পুনর্গঠনে এখন দলটির তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের একটি কার্যকর ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।