
স্টাফ রিপোর্টার: এক মাস কিংবা দেড় মাস পর পর শুনা যাচ্ছে লাখাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে চুরি হচ্ছে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার। এতে সৃষ্টি হচ্ছে জনজীবনে ভোগান্তি, যেমন দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুৎবিভ্রাট, সেচ কাজে বিপর্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় ব্যাঘাত, নিরাপত্তা ঝুঁকি-প্রাণহানি, অন্যান্য নাগরিক সংকট। এসব চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমার চুরির নেপথ্যে করা? এনিয়ে উপজেলা জুড়েবৈছে নানান আলোচনা। ট্রান্সফরমার চুরির রহস্য উদঘাটন করতে অনুসন্ধানে নামে এ প্রতিবেদক।
অনুসন্ধানে জানাযায়, লাখাই উপজেলায় গত ৬ মাসে ৯টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। তা হল- গত বছরের ২৭ জুলাই মুড়িয়াউক ইউনিয়ন পরিষদ এর ৬নং ওয়ার্ডের মেদি বিল হাওড়ের সেচপ্রকল্পের ১০ কেভি ৩টি ট্রান্সফরমার, গত ১৮ আগষ্ট বামৈ মারুগাছ ঈদগাঁও হাওড় সেচপ্রকল্পের ৩ টি ট্রান্সফরমার, মোড়াকরি এলাকায় একটি ট্রান্সফরমার, এছাড়াও গত ২৮ আগষ্ট বামৈ মারুগাছ হাজী বাড়ি সংলগ্ন একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়, এতে ৪দিন যাবত ৯২জন গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন। পরে স্থানীয় লোকজন লাখাই জোনাল অফিসের মাধ্যমে নির্ধারিত মূল্য প্রায় ১লক্ষ ৩০ হাজার টাকার মধ্যে ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে নিজ খরচে পূনরায় ট্রান্সফরমার স্থাপন করেন। চলতি বছরের ৫ জানুয়ারী নকলাউক গ্রামে আরও ২টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। অথচ উপজেলা পল্লীবিদ্যুত কর্তৃপক্ষ নিরব ভূমিকা পালন করছে, নেননি কোনো আইনী পদক্ষেপ।
আর এইসব ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় নেপথ্যে রয়েছে একশ্রেণীর স্থানীয় অসাধু ভাঙ্গারী ব্যাবসায়ী চক্র। এ চক্রটি স্থানীয় চোর, নেশাখোর, জুয়ারি, লোকজনদের টাকা ইনকামের প্রলোভন দেখিয়ে ট্রান্সফরমার এর মূল্যবান জিনিস- তামার তার, সিলিকন স্ট্রিল কোর, অ্যালুমিনিয়াম, সিন্থিটিক ভিত্তিক উচ্চমানের ওয়েল চুরি সংগঠিত করায়। আবার এই মালামাল গুলো তারা নিজেই ওদের(চোর, নোশাখোর, জুয়ারি) লোকজন এর কাছ থেকে ক্রয় করে রাজধানীর ঢাকা সহ অন্যান্যা এলাকায় প্রেরণ করে বিপুল পরিমাণ টাকা ইনকাম করে।
এদিকে বামৈ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন ফুরুখ এর নিকট মোবাইল ফোনে ভাঙ্গারী ব্যাবসায়ী বামৈ পশ্চিম গ্রামের মর্তুজ আলীর ছেলে মো. ওস্তাবির ট্রান্সফরমার চুরির মালামাল ক্রয় বিক্রয় বিষয় স্বীকার করেন। পরে চেয়ারম্যান অফিস থেকে সংরক্ষিত ট্রান্সফরমার চুরির মালাল ক্রয় বিক্রি’র স্বীকার উক্তির ৬মিনিট ১৫ সেকেন্ডের ১টি অডিও ক্লিপ আসে এ প্রতিবেদক এর কাছে।
ওই অডিও ক্লিপ পর্যালোচনায় জানাযায়, বামৈ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন ফুরুখ অভিযুক্ত ভাঙ্গারী ব্যাবসায়ী ওস্তাবির মিয়াকে প্রশ্ন করে বলেন- “আপনি যে ট্রান্সফরমার মাল ক্রয় করেছেন কার কাছ থেকে ক্রয় করেছেন? তার উত্তরে- ওই ভাঙ্গারী ব্যাবসায়ী বলেন, আমি বামৈ মারুগাছ এলাকার ছুর রহমান মিয়ার পুত্র তোফায়েল এর কাছ থেকে ৩কেজি মাল (তামা) ক্রয় করেছি। ” চেয়ারম্যান সাহেব প্রশ্ন করেন এর আগে কেজি মাল ক্রয় করেছেন? তার উত্তরে ওই ব্যাবসায়ী বলেন- ২কেজি ৫০০ গ্রাম তামা, আরেকবার ৩কেজি তামা , আর ২২ কেজি লোহা। আর আমি আপনার সাথে দেখা করব বলে ভাঙ্গারী ব্যাবসায়ী চেয়ারম্যান সাহেবকে বলেন? তার উত্তরে চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন ফুরুখ বলেন -আপনার দেখা করার দরকার নাই। চেয়ারম্যান সাহেব আরও বলেন ওই ব্যাবসায়ীকে যে চুরির মাল ক্রয়র ঘটনা থেকে বাঁচতে হলে সত্যি বল? তার উত্তরে ঐ ব্যাবসায়ী পূনরায় উল্লেখিত পরিমাণ মাল ক্রয়র বিষয় স্বীকার করেন, -তিনি আরও বলেন সে ১০ কেজি মাল বিক্রি করতে চেয়েছিল আমি ক্রয় করে নি। ক্রয় বিক্রির মাল গুলো তামা ছিল।
পরে এবিষয়ে জানতে অভিযুক্ত তোফায়েল এর মুঠোফোনে কল দিলে রিসিভ না করাই বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি।
অনুসন্ধানে আরও জানাযায়, কাটিহারা পূর্ব এলাকার বাছির মিয়ার পুত্র শাহিন মিয়া, একই গ্রামের আফছার মিয়ার পুত্র শেরে আলী ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় জড়িত রয়েছে।
গত এক বছরে কতটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে জানতে লাখাই জোনাল অফিসের ডিজিএম সুমন সাহার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সঠিক বলতে পারতেছি না। রবিবারে অফিসে গিয়ে দিতে পারব। চুরি রোধে লাখাই জোনাল অফিস থেকে কি ব্যাবস্থা নেয়া হয়েছে প্রশ্ন করলে তিনি আরও বলেন, জন সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মাইকিং করা হয়েছে। আপনি অফিসে আইসেন বিস্তারিত কথা হবে।
এবিষয়ে কথা বলতে লাখাই থানার ওসি জাহিদুল হক এর মুঠোফোনে কল দিলে রিসিভ না করাই বক্তব্য নেওয়া যায় নি।