রাজবাড়ী গোয়ালন্দে পল্লী চিকিৎসক হত্যায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৬ জনের যাবজ্জীবন। - দৈনিক দেশ কন্ঠ

রাজবাড়ী গোয়ালন্দে পল্লী চিকিৎসক হত্যায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৬ জনের যাবজ্জীবন।

প্রকাশকঃ দৈনিক দেশ কন্ঠ
প্রকাশ: মে ১৩, ২০২৬

শেখ আব্দুর রাজ্জাক রাজবাড়ী ঃ রাজবাড়ী গোয়ালন্দে পল্লী চিকিৎসক আবু ডাক্তার হত্যা মামলায় ৩ জন আসামির মৃত্যুদণ্ড, ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট সুত্রে জানা গেছে রাজবাড়ী জেলা গোয়ালন্দ থানাধীন রেজাউল করিম ওরফে আবু ডাক্তার হত্যা মামলায় ৩ জন কে মৃত্যুদণ্ড ও ৬ জন কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। আজ মঙ্গলবার (১২ মে) বিচারক রহিবুল ইসলাম, ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ১ এ এই রায় ঘোষণা করেন।
আবু ডাক্তার হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, টোকন সরদার, গাজীয়ার সরকার, ও বাবলু সরদার।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে প্রাপ্ত আসামি হলেন, দেবগ্রাম ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আতর আলী, হাবিবুর রহমান হবি,হেলাল খা, রায়হান সরদার, , জিয়া মন্ডল , জিল্লুর রহমান। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত সব আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মামলা রায়ের সময় ১২ জন আসামী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ১০ জন খালাস পেয়েছেন। কিন্তু সাজা হওয়ার কারণে আসামি জিল্লুর রহমান ও জিয়া মন্ডল কে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। অপর দিকে সাজাপ্রাপ্ত যে আসামিরা পলাতক থাকার কারণে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আব্দুল রশিদ মোল্লা সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। উক্ত হত্যা মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে ২০১৯ সালের ১৪ অক্টোবর গোয়ালন্দ থানাধীন দেবগ্রাম ইউনিয়ন ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্মেলন চলা কালীন সময় দেবগ্রাম ইউনিয়ন সাবেক চেয়ারম্যান আতর আলীর ছেলে বাবলু সরদার যুবলীগ নেতা তার সঙ্গে দেবগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। তার জের ধরে আতর আলীর নেতৃত্বে, বাবলু সরদার, টোকন সরদার, রায়হান সরদার, গাজীর সরদার সহ বেশ কয়েকজন আতর চেয়ারম্যান বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে অবস্থান নেয়। সেই সময় হাফিজুল চেয়ারম্যান সমর্থকরা সেই পথ দিয়ে ফেরার পথে তাদের আটবে রেখে মারধর করে। তখনি তেনাপাচা এলাকায়র পল্লী চিকিৎসক রেজাউল করিম ওরফে আবু ডাক্তার সেখান দিয়ে বাড়ীতে ফিরছিলেন তাকেও আটক করে মারধর করে। এতে তিনি গুরুত্বর আহত হন । পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে গোয়ালন্দ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানেই আবু ডাক্তার মারা যান। এই হত্যা ঘটনায় মোঃ মোবারক মোল্লা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। ৫ অক্টোবর ২০২২ সালে মামলাটি তদন্ত করে পুলিশ, তারপর ২২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে । ঐ মামলর বিচার চলা কালীন ২৯ জনের সাক্ষ্য নিয়ে উপরোক্ত রায় দিয়েছেন আদালত।।