লাখাইয়ে কৃষি জমি গিলে খাচ্ছে অবৈধ ড্রেজার, মিলছে না প্রতিকার - দৈনিক দেশ কন্ঠ

লাখাইয়ে কৃষি জমি গিলে খাচ্ছে অবৈধ ড্রেজার, মিলছে না প্রতিকার

প্রকাশকঃ দৈনিক দেশ কন্ঠ
প্রকাশ: জানুয়ারি ৯, ২০২৬

পারভেজ হাসান,লাখাই: হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ৩নং মুড়াকড়ি ইউনিয়নের সাতাউক গ্রামে ফসলি কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি ও বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। দীর্ঘ দিন ধরে একাধিক স্থান থেকে এভাবে মাটি সরিয়ে নেওয়ায় নদী তীরবর্তী চর এলাকা ও পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়লেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতাউক গ্রামের রুহুল আমিন নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ড্রেজার বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মাটি ও বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী।

এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবিতে এ প্রতিনিধি বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ মুরাদ ইসলাম-এর সাথে বারবার যোগাযোগ করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ইউএনও বারবার ‘পদক্ষেপ নেওয়া হবে’ এবং ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হবে’ বলে আশ্বাস দিলেও বাস্তবে ড্রেজার চলাচল একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা ইউএনও সাহেবকে জানাচ্ছি, কিন্তু তিনি শুধু আশ্বাসই দিচ্ছেন। ড্রেজার মালিক রুহুল আমিন বুক ফুলিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশাসনের এই ঢিলেঢালাভাবে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি তুললে নদীগর্ভ বিলীন হতে পারে এবং আশেপাশে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি ধসে পড়ার আশঙ্কা থাকে। সাতাউক গ্রামের এই অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধ না হলে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন পরিবেশবাদীরা।

দ্রুত সময়ের মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ড্রেজার জব্দ এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী জনতা।