
নিজস্ব প্রতিবেদক: লাখাই উপজেলার বামৈ মুক্তিযোদ্ধা কলেজের কম্পিউটার অপারেটর তফাজ্জল হোসেনের রহস্যময় ও বহুমুখী কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হয়েও একই সাথে দলিল লেখক (মুহুরি) এবং সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকায় তাঁর পেশাগত নৈতিকতা ও আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিধিমালা লঙ্ঘন: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী প্রতিষ্ঠানের কর্মঘণ্টার মধ্যে অন্য কোনো লাভজনক পেশা বা ব্যবসায় সরাসরি যুক্ত থাকতে পারেন না। অভিযোগ রয়েছে, তফাজ্জল হোসেন কলেজের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত দলিল লেখকের কাজ এবং সাংবাদিকতার আড়ালে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। একজন পূর্ণকালীন কর্মচারী কীভাবে একই সঙ্গে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন পেশায় সক্রিয় থাকেন, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক ভোলবদল ও প্রভাব বিস্তার: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি স্থানীয় সাবেক এমপি আবু জাহির এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুশফিকুল আলম আজাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেই সময়ে ক্ষমতার প্রভাবে তিনি বেপরোয়া ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি রাতারাতি নিজের ভোল পাল্টে ফেলেন এবং বর্তমানে নিজেকে বিএনপি ঘরানার লোক হিসেবে দাবি করছেন। তাঁর এই চতুর রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে হাস্যরসের খোরাক জোগাচ্ছে।
সাংবাদিকতার মোড়কে অপকৌশল: সম্প্রতি লাখাই প্রেস ক্লাব পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত অ্যাডহক কমিটিতে তফাজ্জল হোসেনের মতো বিতর্কিত ও অ-সাংবাদিক ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য করায় প্রকৃত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সাংবাদিকতার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে তিনি মূলত নিজের দলিল লেখক পেশার অনৈতিক সুবিধা এবং বিভিন্ন মহলে প্রভাব বিস্তার করার পথ প্রশস্ত রাখছেন।
আইনি জটিলতা ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা: একজন কলেজ কর্মচারীর দলিল লেখক হিসেবে কাজ করা এবং একই সাথে রাজনৈতিক তকমা ব্যবহার করা ‘সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা