
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা ডাককে কেন্দ্র করে সোহেল মোল্লা (৫০) নামে এক ইজারাদারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রবিবার (১৭ মে) দুপুর ৩টার দিকে বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত সোহেল মোল্লা বেলকুচি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং এনায়েতপুর থানা বিএনপির সাবেক সদস্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বেলকুচি উপজেলায় অস্থায়ী পশুর হাটের উন্মুক্ত ইজারা ডাক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষে বিভিন্ন ইজারাদার ইউএনও কার্যালয়ে উপস্থিত হন। দুপুরে সোহেল মোল্লা তৃতীয় তলার হলরুমে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে হলরুম থেকে টেনে-হিঁচড়ে নিচে নামিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় বেলকুচি উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব বনী আমিন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম আজম এবং পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হাজীর উপস্থিতি ছিল। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সোহেল মোল্লাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত সোহেল মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, “ইজারায় অংশ না নিতে আমাকে আগেই হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। রোববার ইউএনও কার্যালয়ের হলরুমে থাকা অবস্থায় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রহিস ব্যাপারী, দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাকিম এবং এনায়েতপুর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আমার ওপর হামলা চালায়। তারা আমাকে মারতে মারতে নিচে নামিয়ে আনে।”
বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে অভিযুক্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরিন জাহান বলেন, “আমি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভায় ছিলাম। ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”