লাখাইয়ে নিলামকৃত বালু দখলে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ যুবলীগ নেতা সাগরের বিরুদ্ধে  - দৈনিক দেশ কন্ঠ

লাখাইয়ে নিলামকৃত বালু দখলে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ যুবলীগ নেতা সাগরের বিরুদ্ধে 

প্রকাশকঃ দৈনিক দেশ কন্ঠ
প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬

কমনর উদ্দিন মনির: হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার স্বজনগ্রাম বাঙ্গাল পাড় এলাকায় “পুনঃখনন কাজ বাস্তবায়নে ‘সুতাং নদী থেকে উত্তোলন করে রাখা নিলামকৃত বালু দখলের জন্য স্তূপের ওপর অবৈধভাবে স্থাপনা (ঘর) নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে লাখাই ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগ (নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন) এর নেতা সাগর বাঙালীর বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার আমানুল্লাপুর গ্রামের বাসিন্দা। বালুর ওপর রাতারাতি স্থাপনা তৈরি করায় নিলামকৃত বালু খালাস বা অপসারণের কাজ থমকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

​গতকাল শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিলামকৃত বালুর স্তূপটির ওপর আনুমানিক প্রায় ৩৫ হাত দৈর্ঘ্য এবং ২৮ হাত প্রস্থ বিশিষ্ট একটি সুবিশাল টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

​স্থানীয় অধিবাসী ও সচেতন মহলের মতে, বালু দখল ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া এবং ইজারাদারের বালু খালাস প্রক্রিয়াকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করতেই সাগর বাঙালীর নেতৃত্বে প্রভাবশালী একটি মহল এই কৌশল অবলম্বন করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুতাং নদী থেকে বালু উত্তোলনের পর তা বিক্রির উদ্দেশ্যে ব্যাক্তিমালিকানাধীন ও সরকারি খাস জমিতে বড় স্তূপ (স্টক) করে রাখেছিল একটি প্রভাবশালী বালু খেকো। পরবর্তীতে সরকারি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশক্রমে লাখাই উপজেলা প্রশাসন আনুমানিক ২০,৯৭,০০ ঘনফুট বালু গত ২৫ আগস্ট প্রকাশ্যে নিলামের উদ্যোগ নেয়। ওই দিন প্রথমে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিলাম ডাকার চেষ্টা করা হলে স্থানীয় কতিপয় লোকের বাঁধার মুখে পড়ে প্রশাসন। পরবর্তীতে একই দিনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ভিত্তিমূল্যে বালুর উন্মুক্ত নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এতে লাখাই ইউনিয়নের বাসিন্দা ‘কালা বাদশা’ সর্বোচ্চ ২৫ লাখ ১০ হাজার টাকা বিড করে উক্ত বালু নিলামে পান।

নিলামগ্রহীতা কালা বাদশা জানান, তিনি নিয়ম মেনে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে সরকারি কোষাগারে ১ম দাফে ২০ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন এ বালু নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে জামেলা চলছে। স্থানীয় প্রশাসন যদি সম্পূর্ণ বালু আমাদেরকে উদ্ধার করে দিতে পারে তাহলে বাকী সম্পূর্ণ টাকা দিয়ে সকল বালু অপসারণ/বিক্রি করব। এসময় ওই অবৈধ স্থাপনাটি বালু অপসারণে বাঁধা হয়ে দাড়াবে। বালু যেন অপসারণ না করতে পারি সেজন্য এক ব্যক্তি অবৈধ স্থাপনা (ঘর) তৈরি করে পুরো বালু দখলের পাঁতারা শুরু করছে। আমি আজই দখলকারী সাগর বাঙালীর সাথে এবিষয়ের কারন নিয়ে আলোচনা করব।

স্থাপনা (ঘর) তৈরির বিষয়টি স্বীকার করে অভিযুক্ত ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগ নেতা সাগর বাঙালী বলেন,  জায়গাটি আমার নয়। আমি জায়গাটা হান্নান মেম্বার এর ছেলে শিপনের নিকট থেকে বন্ধক নিছি ঘর তৈরির জন্য গ্যারেজ করার লক্ষ্যে

নিলামপ্রাপ্তীরা যখন বালু অপসারণ করবেন তখন বাঁধার সম্মুখীন হবে কি না প্রশ্ন করলে তিনি আরও বলেন, ঘর (স্থাপনা) ভেঙে ফেলব বলে মন্তব্য করেন তিনি। আর প্রশাসনের নিকট থেকে কোনো অনুমতি নেন নি বলে জানান তিনি। আর তিনি আরও বলে যুবলীগ করছি তবে কোনো পদবী নাই বলে জানিয়েছেন তিনি। আর বালু দখলের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে লাখাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কৃষ্ণ চন্দ্র মিত্র জানান, বিষয়টি অবগত আছি, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

​অন্যদিকে, লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও—অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। দ্রুত খোঁজ-খবর নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”।

স্থানীয়দের মতে, প্রশাসন অতিদ্রুত পদক্ষেপ না নিলে শুধু বালু অপসারণই বাধাগ্রস্ত হবে না, বরং সরকারি ও সরকারি সুবিধাপ্রাপ্ত সম্পত্তি দখলের এই অপপ্রবণতা দিন দিন আরও বৃদ্ধি পাবে। তাই অচিরেই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে বালু খালাসের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সরাসরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও এলাকার সচেতন নাগরিক সমাজ।