
পথশিশু নিকেতন ফাউন্ডেশন একটি সামাজিক সেচ্ছাসেবী সংগঠন, ঘাম অশ্রু আর তিল তিল ত্যাগের এক মহাকাব্য আমাদের এই স্বপ্নযাত্রার আনুষ্ঠানিক লড়াইটা শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালে। তখন এক অফিস থেকে অন্য অফিস, এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘোরার সেই ক্লান্তিকর দিনগুলো ছিল আমার নিত্যসঙ্গী। কতবার যে ফিরে এসেছি “স্যার আজ মিটিংয়ে” কিংবা “কাল আসুন” এমন অজুহাত শুনে, তার কোনো সীমা নেই। অবহেলা আর অপেক্ষায় দেখতে দেখতে আড়াইটা বছর পেরিয়ে গেল। এমনও দিন গিয়েছে, সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ক্ষুধার্ত পেটে একদৃষ্টিতে অফিসারের দরজার দিকে তাকিয়ে বসে থেকেছি, যদি একবার ডাক পড়ে!
আমাদের কোনো মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না। কিন্তু নিয়ম ছিল—স্থায়ী অফিস না থাকলে মিলবে না রেজিস্ট্রেশন। সংগঠনের শূন্য তহবিলের দিকে তাকিয়ে যখন দিশেহারা, তখন আমার পকেটে ছিল নিজের জন্য নতুন একজোড়া কাপড় কেনার জমানো কিছু টাকা। নিজের শখের চেয়ে স্বপ্নের দাম যে আমার কাছে অনেক বেশি ছিল! তাই নিজের জন্য কাপড় না কিনে সেই টাকা দিয়ে অফিসের প্রথম আসবাবপত্রটুকু কিনি।
সেই অফিস গড়তে গিয়ে আমি কখনো হয়েছি রাজমিস্ত্রি, কখনো রঙমিস্ত্রি। তিল তিল করে নিজের হাতে ইটের পর ইট গেঁথে সাজিয়েছি আমাদের এই ভালোবাসার আঙিনা। কত রাত নির্ঘুম কেটেছে অফিশিয়াল নথিপত্র গোছাতে, কতবার যে ক্লান্ত শরীরে ঘাম ভেজা হাতে প্রিন্ট করা কাগজগুলো বুকে জড়িয়েছি!
সবশেষে যখন আর কোনো উপায় ছিল না, তখন কেবল সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা রেখেছি। জায়নামাজে সিজদায় পড়ে কত নির্ঘুম রাত চোখের জলে ভাসিয়ে দিয়েছি আর ফরিয়াদ করেছি, “হে দয়াময়, আমাদের এই অবুঝ শিশুদের জন্য হলেও আমাদের শ্রম কবুল করো।” অবশেষে আল্লাহ কবুল করেছেন কিছুদিন পূর্বে হবিগঞ্জ জেলা সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে।
আর এই সংগঠনের প্রতিটা ধূলিকণায় আমার নিঃশ্বাস আর রক্তজল করা পরিশ্রম মিশে আছে, যা কোনো ভাষাতেই পুরোপুরি বোঝানো সম্ভব নয়। এই বন্ধুর পথে যারা আমার সঙ্গী হয়েছেন এবং আমার যে সহকর্মীরা ছায়ার মতো পাশে থেকেছেন, তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা জানানোর মতো কোনো শব্দ আজ আমার জানা নেই। এই বিজয় (রেজিষ্ট্রেশন) আমাদের সবার ত্যাগের ফসল।
মো.শাহ নাজিমুল হক
প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি
পথশিশু নিকেতন ফাউন্ডেশন