রাজবাড়ী গোয়ালন্দে নিখোঁজের ১০ দিন পরে মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার।  - দৈনিক দেশ কন্ঠ

রাজবাড়ী গোয়ালন্দে নিখোঁজের ১০ দিন পরে মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার। 

প্রকাশকঃ দৈনিক দেশ কন্ঠ
প্রকাশ: মে ১৫, ২০২৬

শেখ আব্দুর রাজ্জাক   রাজবাড়ী প্রতিনিধি ঃ   গোয়ালন্দে নিখোঁজের ১০ দিন পর এক নারী ও তার ২ বছর বয়সী শিশু কন্যার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে ফরিদপুর সদর ও গোয়ালন্দ উপজেলার সীমান্তবর্তী একটি কলাবাগান থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন- রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার চরকর্ণেশন গ্রামের   মোঃ আমজাদ শেখের স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩০) ও তার শিশু কন্যা সামিয়া (২)। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রা জানায়, কলাবাগান এলাকার  একটি নির্জন পুকুর পাড়ে কুকুর মাটি খুড়ে মরদেহ নিয়ে  টানাটানি করে।  এ সময় সময় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন সেখানে গিয়ে দেখে  মাটিচাপা দেয়া  মরদেহ। পরে  তারা বিষয়টি ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার  পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে এক নারী ও একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহগুলো আংশিক গলিত ও বিকৃত অবস্থায় ছিল।পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, কয়েকদিন আগে দুর্বৃত্তরা মা ও শিশুকে হত্যার পর মরদেহ গুম করতে মাটিচাপা দিয়ে রাখে। নিহতের  স্বামী  মোঃ আমজাদ শেখ বলেন, আমরা স্বামী স্ত্রী  ঢাকার আমিন বাজার এলাকায় একটা ইটের ভাটায় কাজ করি। সেখানে আমার স্ত্রী একটা ছেলের সাথে অবৈধ সম্পর্ক করে ।  তা নািয়ে একাধিক বার বিচার শালিস ও হয়।তারপর  আমার স্ত্রী মেয়ে কে নিয়ে  গত ৪ই মে সে তার মৃত  ফুপাতো ভাইয়ের বাড়িতে মিলাদ মাহফিলের  অনুষ্ঠানে  যাওয়ার কথা বলে বাড়ী থেকে বের হয়।আমি  জানতে পারলাম সে তার ফুপাতো ভাইয়ের বাড়িতে যায় নাই, আমি তাকে  ২ দিন অনেক খোঁজাখুজি করি কোথাও না পেয়ে  ৬ই মে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি জিডি করি।  আমজাদ আরো  শেখ বলেন, ‌‘যে ছেলেটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সে আমার স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে গিয়েছিল। আমার সন্দেহ ঐ ছেলে  তাদের কে নির্মমভাবে  হত্যা করে এখানে মাটিচাপা দিয়েছিল। কারণ পরকীয়া নিয়ে সালিশের ঘটনার পর থেকে আমার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল সে। কৌশলে আমার স্ত্রী-সন্ধানকে বাড়ি থেকে এখানে এনে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আমি পুলিশকে তার নাম-পরিচয় জানিয়েছি। আমজাদ শেখের বাবা রব শেখ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‌‘আমার ছেলের বউ ও আদরের নাতনিকে যে এমন নির্মমভাবে হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই।’ 

উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) জামাল মোল্লা জানান, আমজাদ ইটভাটায় কাজ করতেন। সেখানে তার স্ত্রীর সঙ্গে ওই ছেলের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। লাশ উদ্ধারের স্থানের কাছেই সেই যুবকের বাড়ি। এ ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা আছে কিনা খতিয়ে দেখা দরকার পুলিশের।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার এসআই আলমগীর হোসেন বলেন, ‘লাশ উদ্ধারের জায়গাটি ফরিদপুরে হওয়ায় আমরা ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সেখানে পাঠিয়েছি। তবে এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় মামলা হবে।’ ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন বলেন, ‘লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।’

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মরদেহ দুটি যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সেটা ফরিদপুরের মধ্যে পড়েছে। তারপরও আমরা অধিকতর যাচাইয়ের জন্য বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। ফরিদপুর থেকে সিআইডির ক্রাইম সিনের একটি ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং  সঠিক তদন্ত চলছে  বলে জানা গেছে।