স্বামীকে হত্যার পর মরদেহের খণ্ডাংশ ফ্রিজে লুকানোর সময় আটক স্ত্রী - দৈনিক দেশ কন্ঠ

স্বামীকে হত্যার পর মরদেহের খণ্ডাংশ ফ্রিজে লুকানোর সময় আটক স্ত্রী

প্রকাশকঃ দৈনিক দেশ কন্ঠ
প্রকাশ: মে ১৬, ২০২৬

করির হোসেন সরদার, শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যা করে মরদহ টুকরো টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। পরে মরদেহের অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়ে মাংস ফ্রিজে রাখতে গিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহে ধরা পড়েন।

 সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতে মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদার ও তার স্ত্রী আসমা আক্তার। প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয় এর মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়, উভয়েরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। জানা গেছে দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে বিরোধ চলছিল, সেই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।

গত মঙ্গলবার রাতে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসমা আক্তার তার স্বামীর জিয়াকে মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর হত্যাকান্ড গোপন করতে আসমা মরদেহটি ছুরি দিয়ে কয়েক টুকরো করে হাড় মাংস আলাদা করে। দেহাংশ একটি ড্রামে করে ভরে বাসায় রেখে দেন প্রায় তিন দিন।

পরে শুক্রবার রাতে অটো রিক্সা ভাড়া করে দেহের কিছু অংশ বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।
পুলিশ জানায় দেহের মাংসের অংশগুলো তিনি শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকায় তার আগের ভারা বাসায় বাসায় নিয়ে গিয়ে ফ্রিজে রাখতে চান। কিন্তু তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়

পরে তারা জরুরী সেবা ৯৯৯নাইনে ফোন করে দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে আসমা আক্তার বিষয়টি স্বীকার করে, তার দেয়া তথ্যর ভিত্তিতে রাত দশটা নাগাদ সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদের খন্ডিত অংশ উদ্ধার করেন পুলিশ। একই দিন বিকেলে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকে চার হাত-পা উদ্ধার করেন পুলিশ।

নিহতের আত্মীয় শাহাদাত হোসেন বলেন, আমার ভাই প্রবাসে থাকাকালে ওই নারীকে বিয়ে করেন দেশে এসে আলাদা বাসায় থাকতেন আমরা খবর পেয়ে এসে দেখি সত্যিই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

অভিযুক্ত আসমা আক্তার দাবি করেন, স্বামী প্রায়ই আমাকে মারধর করতেন ঘটনার দিন ঝগড়ার এক পর্যায়ে তিনি রড দিয়ে আঘাত করলে তিনি পড়ে যান।
আসমা বলেন আমি বুঝতে পারিনি এত বড় ঘটনা হয়ে যাবে।

পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, স্বামীকে হত্যার পর ড্রামে ভরে রাখে ওই নারী পরে দেহ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়, স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। তিনি আরো জানান এই ঘটনায় আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।