গতকাল শুক্রবার উপজেলার শিবপুর, বলাকান্দি, বুল্লা, লাখাই হাওর সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়- কৃষক শ্রমিক দলবদ্ধভাবে সনাতনী পদ্ধতিতে ধানকর্তন করছেন, আবার কোনো কোনো কৃষক কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার এর সাহায্যে জমির ধান কর্তন করছেন। কৃষকেরা এ ধান ছোটবড় যানবাহনের মাধ্যমে নিজেদের বাড়ীতে নিয়ে যাচ্ছে আবার কেউবা জমির পার্শ্ববর্তি গোপাটে খলায় নিয়ে ধান রোদে শুকাচ্ছ।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বোরো মৌসুমে লাখাই উপজেলায় ১১ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষাবাদ হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৭০ হেক্টর বেশি। এদিকে একাধিক হাওরে ধান কর্তন শুরু হয়েছে, তবে পুরো হাওর শুরু হতে সপ্তাহ খানেক সময় লাগতে পারে বলে জানাগেছে।
তবে ফলন ভালো হলেও দুশ্চিন্তা কাটছে না কৃষকদের। বলাকান্দি গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, “ধানের ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু সব ধান ঘরে তুলতে পারব কি না তা নিয়ে শঙ্কা আছে। পার্শ্ববর্তী অনেক হাওরে গতসপ্তাহের অতিবৃষ্টির কারেন কয়েক হেক্টর বোরে জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।
কথা হলে কৃষক রবিউল মিয়া বলেন, আমার ২ বিগা জমির ধান কর্তন করা হয়েছে, ৩৫ থেকে ৪০মণ ধান হবে বলে আশাকরছি। ধান উৎপাদনে খরচ বেশি, তুলনামূলক লাভ কম।
বামৈ গ্রামের আরক কৃষক বলেন, শ্রমিক সংকট লোক পাওয়া যায় না। শ্রমিকরা মুজরী বেশি চায়।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ শাহাদুল ইসলাম বলেন, একাধিক হাওরে বোরো ধান কর্তন শুরু হয়েছে, সকল হাওরে শুরু হতে ৪/৫দিন সময় লাগতে পারে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে বোরো আবাদ হয়েছে ১১,২২০ হেক্টর জমি। যাহা এ উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে উল্লেখিত পরিমাণ উদ্বৃত্ত থাকবে। এছাড়াও যান্ত্রিক চাষাবাদ আওতায় আসায় লাখাইয়ে শ্রমিক সংকট লাঘব হবে বলে জানান তিনি।
হাওরে ধান কাটা শুরু হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও আকস্মিক বৃষ্টি ও আগাম বন্যার আশঙ্কা এখনো বড় উদ্বেগ হয়ে রয়েছে। দ্রুত ধান কর্তন ও শেষ করতে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের তৎপরতা জোরদার করা জরুরী বলে মন্তব্য করেন কৃষকেরা।